ভারতের রাজস্থানের আজমির শহরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ মে) সকাল ৮টার দিকে হোটেলটিতে আগুন লাগার পর, দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে বেশ কয়েকজন অতিথি জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে তাদের জীবন রক্ষা করেন।
হোটেলটির পাঁচ তলা ভবনে আগুন লাগার পর, অনেকেই জানালা দিয়ে লাফিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন। জওহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার অনিল সামেরিয়া জানান, এই ঘটনায় শ্বাসরোধ ও পুড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি চার বছরের শিশু রয়েছে।
একজন মা তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য হোটেলের তৃতীয় তলার জানালা থেকে ফেলে দেন। শিশুটির দেহ সামান্য পুড়ে গেছে এবং বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হোটেলে অবস্থানরত মাঙ্গিলা কালোসিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘একজন নারী তার সন্তানকে জানালা দিয়ে আমার কোলে ছুড়ে মারেন। তিনি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে থামিয়েছি।’
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হোটেলটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। জানালা দিয়ে দুইজনকে লাফিয়ে পড়তেও দেখা যায়। প্রথমে একজন নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করেন, এরপর আরেকজন জানালা থেকে বেরিয়ে এসে পাশে ঝুলন্ত দড়িটি ধরে রাখেন। উপস্থিত লোকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘লাফ দাও, লাফ দাও।’ তিনি দড়িটি ধরে পিছলে মাটিতে পড়ে যান।
এই ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন এবং তাদের জেএলএন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার আগে তারা এসি ফেটে যাওয়ার কারণে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার সময় হোটেলটিতে মোট ১৮ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যারা দিল্লি থেকে তীর্থযাত্রায় আজমীর শরীফ এসেছিলেন। হোটেলটি সরু গলিতে অবস্থিত হওয়ায় দমকল বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং দমকলকর্মী অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
অবশেষে, কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হোটেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, ‘তদন্ত অভিযান সম্পন্ন হয়েছে, ভেতরে আর কেউ নেই। বৈদ্যুতিক প্যানেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় আকার ধারণ করে।