গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ওই হামলার পর গোষ্ঠীটিকে নির্মূলে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরাইল। দুই পক্ষের হামলায় ১৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নতুন এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য আগেই হাতে পেয়েছিল ইসরাইল।ইসরায়েলে হামাস দুর্ধর্ষ অভিযান চালাবে সেটি একবছর আগেই জানতে পেরেছিলো দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি কর্মকর্তারা ৪০ পৃষ্ঠার একটি নথি হাতে পান, যার সাংকেতিক নাম দেয়া হয় ‘জেরিকো ওয়াল’। নথিতে যেভাবে বর্ণনা দেয়া হয়েছিল, বাস্তবে ঠিক সেভাবেই হামলা চালিয়েছে হামাস। সেই নথিতে হামাসের প্যারাগ্লাইডিং হামলা, সেনা হত্যা এবং অপহরণের মতো পরিকল্পনার কথা উল্লেখ ছিল। এমনকি, নথিটিতে হামাস অভিযানের শুরুতেই রকেট ছুঁড়ে ইসরায়েলি বাহিনীকে হতবিহ্বল করে দেয়া, সিসি ক্যামেরা অকেজো করে ড্রোন হামলা চালানো, সীমান্ত এলাকার চেকপোস্টগুলোতে ভারী মেশিনগান নিয়ে হামলাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ ছিল।
এছাড়াও নথিতে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ও সংখ্যা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য ছিল বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে। তবে হামাসের হাতে কীভাবে এতো নিখুঁত তথ্য পৌঁছেছিলো তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন । গুঞ্জন রয়েছে- ইসরায়েলি বাহিনীতে হামাসের গুপ্তচর রয়েছে । প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাতে আসা নথিটিকে গুরুত্ব দেয়নি ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। তারা ভেবেছিলো হামাসের পক্ষে এমন অভিযান বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তথ্যগুলোকে যাচাই-বাছাই করলে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা বড় সাফল্য পেতো। কিন্তু মোসাদ কর্মকর্তারা বিষয়টিকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করেন।এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এই ব্যর্থতার প্রভাব পড়ছে দেশটির রাজনীতিতেও। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ দেশটির জনগণ।